ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম শনিবার পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন। জেদ্দার বিমানবন্দরের পর সৌদি আরবের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম তাই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোমবার গভীর রাতে হুথিরা দাবি করে, তারা রিয়াদের বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণ আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রাজধানীর দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। একই রাতে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি। তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোমবার জারি করা বিমান চলাচলসংক্রান্ত নোটিস অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর গ্রিনিচ মান সময় রাত ৯টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। শনিবারের হামলার পর থেকেই সেখানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রোববারের আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও প্রায় এক ডজন মানুষ আহত হন।

পরপর হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি জেট জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে এ খাত আগে থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর ও আকাশপথকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিমান নিরাপত্তাবিষয়ক সংগঠন অপসগ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জি বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর হামলার তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিমান চলাচলের ঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন এবং সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বেশির ভাগ বিমান রিয়াদের আকাশপথ এড়িয়ে চলেছে। তবে কিছু উড়োজাহাজ সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে পশ্চিম উপকূলের প্রধান বিমান চলাচলকেন্দ্র জেদ্দায় অবতরণ করেছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।