জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের নাহা শহরের একটি হোটেল কক্ষ থেকে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেফতার করেছে জাপানের পুলিশ। ডাকাতি ও হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী ল্যান্স কর্পোরাল ডেভিন জে বোলার্ডকে ৪ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে জাপানে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বোলার্ড ওকিনাওয়ার ফুটেনমা মার্কিন মেরিন কর্পস বিমান ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ৩ অক্টোবর ভোরে নাহা শহরের একটি হোটেলে তিনি আন্না ইয়াগি নামের ওই নারীকে হত্যা করেন। পরে হোটেল কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর জাপান সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও নিন্দনীয় হিসেবে উল্লেখ করে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা এবং মার্কিন সামরিক সদস্যদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি এ ঘটনায় টোকিওতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসকে তলব করেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে টোকিওর মার্কিন দূতাবাস নিহত নারীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে জাপান সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত সেনার ইউনিট থার্ড মেরিন এক্সপিডিশনারি ফোর্সও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তারা জানায়, গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ওই সেনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেখানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ওকিনাওয়ায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। পরে ২০১৭ সালে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে সাবেক মার্কিন মেরিন সদস্য কেনেথ ফ্র্যাঙ্কলিন শিনজাতোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন জাপানের আদালত।
নতুন এই হত্যার অভিযোগের পর ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও সেনাদের আচরণ নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে বর্তমান ঘটনায় অভিযুক্ত সেনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন