তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারে ধস নেমেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যানকে একে একে সাজঘরে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশের গতিময় এই পেসার। তার বোলিং আক্রমণে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের সামনে সমস্যায় পড়ে তারা। এর মধ্যে তাসকিন আহমেদ একাই জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারের তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে দলকে বড় সুবিধা এনে দেন।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন নিজের বোলিংয়ের ঝলক দেখান। ওভারের পঞ্চম বলে ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফেরান তিনি। শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

এরপর ৪.১ ওভারে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তার শিকার হন জিম্বাবুয়ের আরেক ওপেনার বেন কারান। তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। ফলে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারাতে হয়।

জিম্বাবুয়ের বিপদ আরও বাড়ে সপ্তম ওভারের শেষ বলে। দলীয় ২৪ রানের মাথায় ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তাফাদজা সিগা। এটিও ছিল তাসকিনের বোলিংয়ের ফল। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫ বলে ১৬ রান করেন।

তাফাদজা সিগার বিদায়ে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই সাজঘরে ফেরেন। ফলে ম্যাচের শুরুতেই ব্যাটিং নিয়ে বড় চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে রান তুলতে পারেনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা।

পাওয়ার প্লের ১০ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে মাত্র ৩০ রান। অর্থাৎ প্রথম ১০ ওভারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে বড় বিপাকে পড়ে যায় দলটি। এই ধসের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তাসকিন আহমেদ।

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের লড়াই হচ্ছে। এই সিরিজের তৃতীয় দল আফগানিস্তান। সিরিজের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিজেদের কার্যকারিতা দেখানোর সুযোগ পায়।

টসের পর প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু ইনিংসের শুরুতেই তাসকিনের ধারালো বোলিং তাদের পরিকল্পনায় বাধা তৈরি করে। প্রথম ওভারে ব্রায়ান বেনেট, ৪.১ ওভারে বেন কারান এবং সপ্তম ওভারে তাফাদজা সিগার উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে দ্রুত পিছিয়ে পড়ে।

বিশেষ করে নতুন ব্যাটসম্যান তাফাদজা সিগার উইকেটটি জিম্বাবুয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অভিষেক ম্যাচে ১৫ বলে ১৬ রান করে কিছুটা সময় উইকেটে থাকার পর তিনি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তার বিদায়ের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের প্রথম সারির ব্যাটিং লাইনআপের তিনজনই মাঠের বাইরে চলে যান।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদের এই পারফরম্যান্স ম্যাচের শুরুতেই বোলিং আক্রমণকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের জন্য সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান সংগ্রহ এবং তিন উইকেট হারানোর ফলে ইনিংস পুনর্গঠনের দায়িত্ব পড়ে পরের ব্যাটসম্যানদের ওপর।

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের এমন শুরু তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। তাসকিনের গতিময় বোলিংয়ের সামনে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার যেভাবে ভেঙে পড়েছে, সেটিই ম্যাচের শুরুর অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।