রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৫০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮.৩ ওভারেই ২৫২ রান তুলে ফেলে সফরকারীরা। এই জয়ের মূল নায়ক অধিনায়ক শাই হোপ। মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।

টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে ভারত। সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে আসে সবচেয়ে বড় ইনিংস। ৪১ বলে ৮২ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা। সঞ্জুর সঙ্গে ভারতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ইশান কিশান, তিলক ভার্মা ও শ্রেয়াস আইয়ার।

ইশান কিশান ২২ বলে ৪৩ রান করেন। এরপর তিলক ভার্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন। শ্রেয়াস আইয়ারও ১৮ বলে ৪০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ব্যাটারদের দ্রুত রান তোলার কারণে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রোস্টন চেজ ৩টি এবং শামার স্প্রিঙ্গার ২টি উইকেট নেন।

২৫০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতে চাপে পড়ে যায়। ভারতের মায়াঙ্ক যাদব গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট তুলে নেন। তাঁর বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি হলেও শাই হোপ ও শেরফানে রাদারফোর্ডের জুটি ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়।

শাই হোপ এক প্রান্ত ধরে রেখে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। অন্য প্রান্তে রাদারফোর্ডও ছিলেন ভয়ংকর আক্রমণাত্মক। তিনি ৩৭ বলে ৮৪ রান করেন। হোপ ও রাদারফোর্ডের ব্যাটিংয়ে বড় লক্ষ্য তাড়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ড ১৩ বলে ৩৪ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শেষ পর্যন্ত ১৮.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় পায় তারা। ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব ৩ উইকেট এবং কুলদীপ যাদব ১ উইকেট নেন। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুতগতির রান তোলার সামনে ভারতীয় বোলাররা শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহও রক্ষা করতে পারেননি।

শাই হোপের ৪৫ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। তাঁর সঙ্গে রাদারফোর্ডের ৮৪ রান এবং শেফার্ডের ৩৪ রানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচটি ভারতের হাতের বাইরে নিয়ে যায়।

এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। প্রথম ম্যাচে ভারত জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলের লড়াইয়ে এখন পরবর্তী ম্যাচটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।