২০২৬ সালের উষ্ণতম বছর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। এমনকি ২০২৭ সালেও তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার ঝুঁকি রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অতীতের এল নিনো পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে আগামী বছরগুলোতে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণে, এবারের এল নিনো শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘নিনো ৩.৪’ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গত মাসে ২৯ দশমিক ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এল নিনো পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের তাপমাত্রা আগের কয়েকটি শক্তিশালী এল নিনো ঘটনার সর্বোচ্চ মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এবারের এল নিনোই ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বুয়োনতেম্পোর মতে, পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী হলেও এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। পৃথিবীর সামগ্রিক তাপমাত্রা আগে থেকেই বেড়ে থাকায় এল নিনোর প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা দেখা দিতে পারে। মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই প্রাকৃতিক ঘটনার প্রভাব যুক্ত হলে বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর তীব্রতা ও পরবর্তী সময়ে জলবায়ুর পরিস্থিতি কেমন থাকে, তার ওপর নির্ভর করবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের তাপমাত্রার চূড়ান্ত চিত্র। তাই সম্ভাব্য নতুন রেকর্ড নিয়ে সতর্কতা থাকলেও ২০২৬ সাল নিশ্চিতভাবেই ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হবে, এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো ঠিক হবে না।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন