অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার অভ্যাসকে অনেকেই ক্ষতিকর মনে করেন না। কারণ ডিম সহজলভ্য এবং প্রোটিনসহ নানা পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস। শিশু থেকে বয়স্ক, প্রায় সব বয়সের মানুষের খাবারের তালিকাতেই তাই ডিমের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কোনো খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস সবসময় ভালো নাও হতে পারে। বিশেষ করে কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে ডিমের পরিমাণের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ডিমে থাকা পুষ্টি উপাদানের বড় একটি অংশ পাওয়া যায় এর সাদা অংশ ও কুসুমে। সাদা অংশে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, আর কুসুমে প্রোটিনের পাশাপাশি ফ্যাট ও কোলেস্টেরল রয়েছে। ফলে ডিমের কোন অংশ কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সবার শরীরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় না। তাই একজনের জন্য যে পরিমাণ ডিম স্বাভাবিক, অন্য কারও জন্য সেটি উপযুক্ত নাও হতে পারে।

বিশেষ করে যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের অতিরিক্ত ডিমের কুসুম খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ কুসুমে খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল থাকে। একইভাবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও পুরো খাদ্যতালিকা বিবেচনা করে ডিমের পরিমাণ ঠিক করা উচিত। ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থাকলেও নিয়মিত বেশি ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

একসঙ্গে অনেকগুলো ডিম খেলে কারও কারও হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পেটে গ্যাস, ফাঁপা ভাব বা অস্বস্তির মতো উপসর্গ হতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হজমের সমস্যা রয়েছে। আবার ডিমে অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ডিম খাওয়ার পর চুলকানি, ফুসকুড়ি, পেটের সমস্যা বা অন্য কোনো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অনেকে বেশি প্রোটিন পাওয়ার আশায় একসঙ্গে অনেক ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার চেষ্টা করেন। সাদা অংশে উচ্চমানের প্রোটিন থাকলেও শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর করে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা আদর্শ নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ, মাংস, ডাল, দুধ, শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে ডিমকে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বেশি খেলেই বেশি উপকার—খাবারের ক্ষেত্রেও এমন ধারণা সবসময় ঠিক নয়।

তাহলে দিনে কতটা ডিম খাওয়া উচিত এর একক উত্তর সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য খাবারের ধরন এবং কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে কি না, এসব বিষয় বিবেচনা করতে হয়। সুস্থ ব্যক্তির খাদ্যতালিকায় পরিমিত ডিম রাখা যেতে পারে। তবে উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা ডিমে অ্যালার্জি থাকলে নিয়মিত বেশি ডিম খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। পুষ্টিকর হলেও ডিমকে সুষম খাদ্যের একটি অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।