যুক্তরাষ্ট্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, দিল্লিতে বিমসটেকের বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, মঙ্গলবার সকালে ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ড. ইউনূস রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু মতভিন্নতার কারণে কাউকে প্রকাশ্যে হেনস্তা বা ভয়ভীতি দেখানো গ্রহণযোগ্য নয়।

জাহেদ উর রহমানের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ড. ইউনূসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে বলে জানান তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তি ও জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়কও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।

বিদেশে জুলাই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো এক অভিনেত্রীকে হেনস্তার অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ওই অভিনেত্রী শুধু আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। এরপর তাঁকে বিরূপ আচরণের শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

হেনস্তার ঘটনায় অতীতের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব কোনো ঘটনাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন, তার জবাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই দিতে পারবেন। তবে অতীতের কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমানের হেনস্তা বা সহিংস আচরণকে বৈধতা দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে ড. ইউনূস ও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ধরন সরকারের নজরে রয়েছে। তবে কোনো প্রতিবেদন পছন্দ না হলেই ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। গণমাধ্যমের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি সীমা লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন বলে জানান উপদেষ্টা।