যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর আগে মার্কিন প্রশাসন ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে অন্তত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

ট্রাম্প তার বার্তায় জানান, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে। তবে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার পাশাপাশি ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকবে বলেও তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ইরান এর আগে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ওই প্রস্তাবের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে পৌঁছেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার জানান, তেহরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ইরানের জবাব দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্প আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রস্তাবটি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখন ইরানের পরবর্তী জবাবের দিকে নজর রয়েছে।

এদিকে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বাড়লে তেলের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণায় নির্বাচনের আগে নতুন মার্কিন হামলার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করা হলেও, দুই দেশের আলোচনার ফলাফল কী হয় এবং নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।