প্রোটিন শেক এখন শরীরচর্চা ও ফিটনেসে আগ্রহীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে প্রোটিন শেক কি প্রাকৃতিক খাবারের বিকল্প, নাকি বাড়তি প্রোটিনের প্রয়োজন হলেই এটি খেতে হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যতালিকা থেকেই অধিকাংশ মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তাই প্রয়োজন না বুঝে প্রোটিন শেক খাওয়ার বদলে কার কতটা প্রোটিন দরকার, তা জানা জরুরি।

প্রোটিন শেক সাধারণত প্রোটিন পাউডার ও পানি, দুধ কিংবা অন্য কোনো পানীয় মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এগুলো দুধের হুই ও কেসিন, ডিম, সয়া, মটর বা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে তৈরি হতে পারে। প্রতি পরিবেশনে সাধারণত ১০ থেকে ৩০ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। তবে পণ্যভেদে প্রোটিনের পরিমাণ, ক্যালরি, চিনি ও অন্যান্য উপাদানের মাত্রা আলাদা হতে পারে।

সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য দৈনিক প্রায় ০.৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, সয়া ও বীজজাতীয় খাবার থেকে এই পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে যাঁদের খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি রয়েছে, নিরামিষাশী ব্যক্তি, কিছু বয়স্ক মানুষ, বড় অস্ত্রোপচার বা আঘাত থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তি এবং বেশি শারীরিক পরিশ্রম করা ক্রীড়াবিদদের বাড়তি প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে। তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে প্রোটিন শেক সহায়ক হতে পারে।

কৈশোরে শারীরিক বৃদ্ধি ও খেলাধুলার কারণে প্রোটিনের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এই বয়সে প্রোটিন শেকের ওপর নির্ভর না করে ডিম, মাছ, দুধ, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার থেকে প্রোটিন গ্রহণ করাই ভালো। প্রোটিন শেক কেনার সময় উপাদান, প্রতি পরিবেশনে প্রোটিনের পরিমাণ, ক্যালরি ও চিনির মাত্রা যাচাই করা উচিত। দুধে অসহিষ্ণুতা বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে উপযুক্ত বিকল্প বেছে নিতে হবে।

প্রোটিন শেক সবার জন্য ঝুঁকিমুক্ত নয়। কিছু পণ্য খেলে অ্যালার্জি, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা কিংবা ডায়রিয়া হতে পারে। অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণও প্রয়োজনীয় নয় এবং কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্ধারিত খাদ্যনিয়ম মেনে চলা জরুরি। কিছু পণ্যে ভারী ধাতুর মতো দূষক থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই নির্ভরযোগ্য প্রস্তুতকারকের পণ্য বেছে নেওয়া এবং অযথা বেশি প্রোটিন গ্রহণ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।