কাঠবাদাম অনেকের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা পরিচিত একটি বাদাম। আকারে ছোট হলেও এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। পরিমিত পরিমাণে কাঠবাদাম খেলে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে শুধু উপকারী বলেই বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়।
প্রতিদিন কতটি কাঠবাদাম খেতে হবে, এ বিষয়ে সবার জন্য একই নিয়ম নেই। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, ওজন এবং দৈনিক ক্যালোরির চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজন আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে এক মুঠো বাদাম খাওয়ার কথা বলা হলেও ২০ থেকে ২৩টি বাদাম খেতেই হবে এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। অল্প পরিমাণে নিয়মিত খাওয়াও খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের ক্ষেত্রে কাঠবাদাম খাওয়ার পরিমাণে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। এতে থাকা ফ্যাট মূলত স্বাস্থ্যকর হলেও বাদামে ক্যালোরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই বেশি খেলে অজান্তেই দৈনিক ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও পরিমাণের ভারসাম্য রাখা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
কাঠবাদামে থাকা ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত বাদাম খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্স্বাস্থ্যের বিভিন্ন উপকারের সম্পর্কও গবেষণায় পাওয়া গেছে। তবে কোনো একটি খাবারকে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
অনেকে সকালে পানিতে ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম খেতে পছন্দ করেন। আবার কেউ সরাসরি কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড বাদাম খান। কাঠবাদাম খাওয়ার আগে ভিজিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড বাদামও খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা অন্য কোনো মিষ্টি আবরণযুক্ত বাদামের বদলে সাধারণ বাদাম বেছে নেওয়া ভালো।
তবে সবার জন্য কাঠবাদাম সমানভাবে উপযোগী নয়। যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলতে হবে। একই সঙ্গে যারা ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের পরিমাণ মেপে খাওয়া দরকার। তাই প্রতিদিনের খাবারে কাঠবাদাম যোগ করতে চাইলে নিজের খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করাই ভালো।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন