হাঁটুর ব্যথা কমাতে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি হাঁটার ধরন পরিবর্তনও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ২০২৫ সালের আগস্টে দ্য ল্যানসেট রিউমাটোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তির হাঁটার ধরন অনুযায়ী বিশেষ প্রশিক্ষণ দিলে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমতে পারে। তবে এই পদ্ধতি সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
হাঁটুর ব্যথার অন্যতম কারণ অস্টিওআর্থ্রাইটিস। এ সমস্যায় হাঁটুর হাড়ের প্রান্তে থাকা তরুণাস্থি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে হাঁটাচলা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা কিংবা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানোর মতো দৈনন্দিন কাজেও ব্যথা হতে পারে। ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ওষুধের মাধ্যমে উপসর্গ কমানো সম্ভব হলেও ক্ষয়ে যাওয়া তরুণাস্থি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা এখনো নেই।
হাঁটুর ব্যথা কমানোর সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গেইট রিট্রেনিং’ বা হাঁটার ধরন পুনঃপ্রশিক্ষণ। এই পদ্ধতিতে ব্যক্তির পায়ের অবস্থান, হাঁটার কোণ ও শরীরের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী হাঁটার কৌশল শেখানো হয়। এর উদ্দেশ্য হলো হাঁটার সময় হাঁটুর নির্দিষ্ট অংশে পড়া অতিরিক্ত চাপ কমানো। গবেষকদের ধারণা, এভাবে হাঁটুর ওপর চাপ কমানো গেলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহ, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের এক বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ব্যক্তিভেদে নির্ধারিত হাঁটার প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের হাঁটুর ব্যথা নিয়ন্ত্রণমূলক প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গবেষকেরা জানান, ব্যথা কমার মাত্রা কিছু প্রচলিত ওষুধের উপকারের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। তবে এই ফলাফলকে সব রোগীর জন্য নিশ্চিত সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়।
গবেষকদের মতে, হাঁটার সময় হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়া অস্টিওআর্থ্রাইটিসের অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পায়ের অবস্থান বা কোণে পরিবর্তন এনে সেই চাপ কমানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই আগ্রহ ছিল। নতুন গবেষণাটি এ বিষয়ে আশাব্যঞ্জক ফল দিলেও হাঁটার কৌশল পরিবর্তন করলে তরুণাস্থির ক্ষয় দীর্ঘমেয়াদে কমবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ দরকার। তাই শুধু গবেষণার ফল দেখে নিজে নিজে হাঁটার ধরন বদলানো ঠিক হবে না।
হাঁটুর ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে বা হাঁটাচলায় সমস্যা হলে চিকিৎসক কিংবা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাঁরা শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যায়াম ও হাঁটার প্রশিক্ষণ নির্ধারণ করতে পারেন। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত সহনীয় ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা উপসর্গ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। হাঁটুর ব্যথা কমাতে হাঁটার ধরন পরিবর্তন ভবিষ্যতে আরও একটি সহায়ক পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে, তবে এর কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও গবেষণার অপেক্ষা রয়েছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন