বিদেশি কারিকুলামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হবে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলস আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেমিনারের বিষয় ছিল বিদেশি কারিকুলামে পড়া শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশি কারিকুলামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়টি ইউজিসির নেতৃত্বাধীন কমিটি পর্যালোচনা করবে। পরে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য সমতার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এ প্রসঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলের সনদকে নিজস্ব উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সমমানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষার বিভিন্ন ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা যেন যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে ভর্তির শর্ত ও সমমান নির্ধারণের বিষয়টি প্রস্তাবিত কমিটির পর্যালোচনা এবং সুপারিশের পর স্পষ্ট হবে।

একই সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে কার্যকর পাঠদান জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, বিদেশি কারিকুলামে পড়াশোনার পাশাপাশি দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের সভাপতি মো. মোরশেদুল ইসলাম। বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

প্রস্তাবিত কমিটির পর্যালোচনা ও নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বিদেশি কারিকুলামে পড়া শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হতে পারে। এখন এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে কমিটি গঠন, সুপারিশ এবং পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।