নতুন বছরের জানুয়ারিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করছেন বলেও জানান তিনি। দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
নতুন বইয়ের মান নিশ্চিত করার বিষয়েও এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বই ছাপার ক্ষেত্রে ভালো মানের কাগজ ও কালি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিম্নমানের কারণে ইতোমধ্যে প্রকাশকদের কাছ থেকে তিন লাখ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কোনো প্রকাশকের কাজে মানের ঘাটতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর পরও কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
আগামী জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সময়মতো বই পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বইয়ের মান, সময়মতো বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমে কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও প্রস্তুতির ওপর।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন