নওগাঁয় জিপিএ-৫ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুক্রবার সকালে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখানো শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় 'শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা'। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের দেখা পেয়ে কেউ জড়িয়ে ধরে, কেউ মুঠোফোনে সেই মুহূর্ত ধরে রাখে।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সঞ্চালনা করেন নওগাঁ বন্ধুসভার সদস্য পারমিতা রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নওগাঁ প্রতিনিধি ওমর ফারুক। অভিভাবকদের পক্ষে কথা বলেন দেওয়ান মাহবুব আলম ও মিনা আক্তার। যমজ বোন শুভমিতা রায় ও সমাদ্রিতা রায় একই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শুভমিতা জানায়, এই দিনটির জন্য তারা অপেক্ষায় ছিল।

নিয়ামতপুরের গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া সাফিয়া খাতুন দিনমজুর বাবার সঙ্গে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে অনুষ্ঠানে আসে। তার কাছে নওগাঁয় জিপিএ-৫ সংবর্ধনা স্বপ্নের মতো। সাফিয়া এই সাফল্যের বড় কৃতিত্ব দেন বাবা-মা ও শিক্ষকদের। 

অতিথির বক্তব্যে আইনজীবী ডি এম আব্দুল বারী পড়াশোনার পাশাপাশি আবৃত্তি, গান ও খেলাধুলার চর্চার ওপর জোর দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আইটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আরও যুক্ত হতে বলেন। তাঁর মতে, শুধু চাকরি আর অর্থের পেছনে না ছুটে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও নিতে হবে। 

প্রথম আলো রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জন্মদাত্রী মা, জন্মভূমি ও মাতৃভাষাকে কখনো ভোলা যাবে না। মাদক থেকে দূরে থাকা, মিথ্যা না বলা এবং না বুঝে মুখস্থ না করার পরামর্শও দেন তিনি। এরপর শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যাকে 'না' বলার শপথ পাঠ করান বেলায়েত হোসেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়। তবে ক্রেস্ট হাতে শিক্ষার্থীরা তখনো ফটো ফ্রেমে ছবি তুলছিল, ফোন নম্বর বিনিময় করছিল। 'স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো' স্লোগানে সারা দেশের ৬৪ জেলায় এই আয়োজন চলছে। নওগাঁয় জিপিএ-৫ সংবর্ধনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।