চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে বিধি অমান্যের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় শিক্ষকরা। বদলি কমিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর আগেই ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক তিনটি বিদ্যালয়ের শূন্য পদের তথ্য গোপন রেখে বাইরের শিক্ষক বদলির প্রস্তাব পাঠানোর কারণে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, বদলি, পদত্যাগ ও অবসরজনিত কারণে চন্দনাইশ উপজেলার ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩২টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে শিক্ষকদের দাবি, আরও তিনটি বিদ্যালয়ের তিনটি পদ গোপন রাখায় প্রকৃতপক্ষে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৫টি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর রহমানকে সভাপতি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটি গঠন করা হয়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই গাছবাড়ীয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পূর্ব জোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদের বিপরীতে উপজেলার বাইরে কর্মরত তিনজন সহকারী শিক্ষককে বদলির প্রস্তাব পাঠানো হয়।
স্থানীয় শিক্ষকদের অভিযোগ, কমিটি গঠনের আগেই নির্দিষ্ট তিনটি শূন্য পদের বিপরীতে বাইরের শিক্ষক বদলির প্রস্তাব পাঠানোয় স্থানীয় সাধারণ শিক্ষকদের আবেদনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, দোহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের পরিচিত এক শিক্ষকের স্ত্রীর নামে। শূন্য পদ তালিকায় উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট শিক্ষকের বদলির প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে বিধিসম্মত নয় বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে সাতবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহফুজুল হক রোমেল জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি তার স্ত্রীর বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে শূন্য পদের আনুষ্ঠানিক তালিকায় দোহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চন্দনাইশের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ইলিয়াছ বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে করা হয়েছে, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক জবাবদিহি


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন