সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সরকারবিরোধী পোস্ট ও মন্তব্য এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার কবির রুবেলকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ার বিষয়টিও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পেছনে উল্লেখ করেছে দলীয় নেতৃত্ব।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাগেরহাট পৌর বিএনপির দলীয় প্যাডে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহরিয়ার কবির রুবেলের বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা এবং আদর্শের পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

দলীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শাহরিয়ার কবির রুবেলের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক পদক্ষেপের আগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ওই নোটিশের জবাব দেননি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাগেরহাট পৌর বিএনপি।

জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূলত বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে দলীয় নিয়ম ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের কারও আপত্তি থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও সেখানে মতামত তুলে ধরা যেতে পারে। কিন্তু দলীয় ফোরামে আলোচনা না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করাকে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে দলীয় নেতৃত্ব।

বাগেরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শাহেদ আলি রবি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল ইসলাম জুয়েলের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের জেরে দলীয় নেতার বিরুদ্ধে এমন সাংগঠনিক ব্যবস্থা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে এ বিষয়ে শাহরিয়ার কবির রুবেলের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই।