রাজধানীর উত্তরায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বেতন-ভাতা বাড়ানো এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরা অংশে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার প্রায় এক হাজার শ্রমিক রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন। তাঁরা কসাইবাড়ি রেলগেট, জামতলা রেলগেট, আজমপুর রেলগেট এবং জসিমউদ্দিনের হলি ল্যাব মোড় এলাকায় অবস্থান নেন। পরে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের একাংশের হাতে লাঠি ও ইটপাটকেল ছিল। তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিল্প পুলিশের একজন সদস্যের হাত ভেঙে গেছে বলে তিনি জানান। সব মিলিয়ে পুলিশের ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ। এসব দাবি ঘিরে তাঁরা সড়কে জড়ো হয়েছিলেন। তবে শ্রমিকদের সব দাবি, সংশ্লিষ্ট কারখানার নাম এবং বকেয়া বেতনের পরিমাণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে বিরোধের সমাধান এবং ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ এড়াতে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।