সরকারি দিবস পালনের নির্দেশনায় নতুন নিয়ম করেছে সরকার। জাতীয় পর্যায়ে ১৮টি দিবস ও উৎসব, ঐতিহ্যগত ও সামাজিক গুরুত্বসম্পন্ন ৩৯টি দিবস এবং বিশেষ খাতের প্রতীকী ৩৫টি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। এতে দিবস পালনের ধরন, সরকারি বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঐতিহ্যগত ও সামাজিক গুরুত্বসম্পন্ন দিবসের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত থাকবেন। অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, বিশেষ খাতের ৩৫টি প্রতীকী দিবস সীমিত পরিসরে পালন করা হবে। এসব দিবসের জন্য উন্নয়ন খাত থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

সরকারি দিবস পালনের নির্দেশনায় অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান ও ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব দিবস নিয়মিতভাবে পালিত হলেও বর্তমানে তেমন গুরুত্ব বহন করে না বা একই ধরনের দিবসের পুনরাবৃত্তি ঘটে, সেগুলো পালনে সরকারি সংস্থাগুলো সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলতে পারে। শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষসহ কয়েকটি কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিতে হবে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালনের কর্মসূচিও তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।

এ ছাড়া দিবস পালনে সাজসজ্জা, বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কর্মদিবসে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা যথাসম্ভব পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের কর্মসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। অফিসের স্বাভাবিক কাজে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।

সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দিবস বা সপ্তাহ পালনের জন্য জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবসকে প্রাধান্য দিয়ে একই দিনে একত্রে আয়োজনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও সীমিত পরিসরে পালন করা।