ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ডের ঘটনা ছাপিয়ে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের প্রতিপক্ষের চুল টেনে ধরার কাণ্ড। ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় এবং তার করা গোলটিও বাতিল হয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৭১তম মিনিটে। রিয়াল মাদ্রিদ তখন দারুণ একটি প্রতি-আক্রমণে উঠছিল। মাঝমাঠ থেকে শুরু হওয়া সেই আক্রমণে বদলি হিসেবে নামা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জুড বেলিংহামের পাস থেকে তিনি গোল করেন। গোলের পর মনে হচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদ ২-০ গোলে এগিয়ে গেছে। আনন্দে কোচ জোসে মরিনিওও ছুটে গিয়ে কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে ভিনিসিয়ুসকে জড়িয়ে ধরেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম নিয়ে ভিনিসিয়ুসের ওপর চাপ ছিল। এই মৌসুমে তার গোল ছিল মাত্র একটি। আন্তর্জাতিক বিরতির পর রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম ম্যাচেও তাকে বেঞ্চে বসতে হয়েছিল। ফলে গোলটি তার জন্য স্বস্তির মুহূর্ত হয়ে এসেছিল। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

বার্নাব্যুতে যখন গোল উদযাপন চলছিল, তখন রেফারি ইসিদ্রো দিয়াজ মাঠের পাশের স্ক্রিনে গোলটি এবং তার আগের আক্রমণের দৃশ্য দেখেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, মাঝমাঠে বল নিয়ে ধস্তাধস্তির সময় ভিনিসিয়ুস ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল ধরে পেছনের দিকে টেনে দিয়েছিলেন।

কানাডীয় এই খেলোয়াড়ের চুল জোরে টেনে ধরায় তার গতি কমে যায়। এরপর ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে রেফারি ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল করেন এবং তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে গোল হারানোর পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদও একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়।

লাল কার্ড দেখার পর প্রথমে অবিশ্বাসে স্তব্ধ হয়ে যান ভিনিসিয়ুস। এরপর রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। রেফারি দিয়াজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে থামানোর চেষ্টা করেন রিয়াল মাদ্রিদের সতীর্থ আন্তোনিও রুডিগার ও আর্দা গুলের। শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।

ভিনিসিয়ুসের বিদায়ের আগে অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে লিড নিয়ে নেয়। ভেদে ভালভার্দের পাস থেকে ইয়ান দিওমান্দে গোল করেন। সেটি ছিল রিয়াল মাদ্রিদে তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। ভিনিসিয়ুস লাল কার্ড দেখার পরও ১০ জনের রিয়াল সেই ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

ফলে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড এবং বাতিল হওয়া গোল ম্যাচের উত্তেজনা বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট পায় মাদ্রিদের দলটি। চুল টানার ঘটনাকে ফুটবলের আইনে সহিংস আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে এবং এ ধরনের ঘটনায় একাধিক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রিয়ালের এই জয়ের আগে লা লিগায় নিজেদের ম্যাচ জিতে নিয়েছিল বার্সেলোনা। রাফিনিয়াকে ছাড়া খেলেও কাতালান দলটি গেটাফেকে ৩-০ গোলে হারায়। তাদের হয়ে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও জুল কুন্দে। গর্ডন ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে, জেসুস ৩০তম মিনিটে এবং কুন্দে ৭৩তম মিনিটে গোল করেন।

বার্সেলোনার এই জয়ের ফলে তারা সর্বোচ্চ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে তারা ৫ পয়েন্ট এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান ৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে আতলেতিকো মাদ্রিদ আলাভেসের মাঠে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদের জন্য তাই ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার নিষেধাজ্ঞা কত ম্যাচের হবে, সেটিই এখন অপেক্ষার বিষয়।