জার্মানির বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবিত ঋণে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মাতৃমৃত্যু কমানো, নারী ও মেয়েদের ক্যান্সার শনাক্তকরণ এবং প্রত্যন্ত এলাকায় জরুরি প্রসূতি সেবা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বার্লিনের চ্যারিটি ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের দ্বিপাক্ষিক ও প্রযুক্তিবিষয়ক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রস্তাবিত ঋণের আওতায় নারী স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে মাতৃমৃত্যুর হার কমানো এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার জন্য আধুনিক সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচির আরেকটি লক্ষ্য হলো ইউনিয়ন পর্যায়ে দিন-রাত জরুরি প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পেশেন্ট ট্র্যাকিং চালুর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
উদ্যোগটির বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), বার্লিনের চ্যারিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথের। সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহযোগিতায় দেশের নারী ও মেয়েদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী ও মেয়েদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতা সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বার্লিনের চ্যারিটি হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও ক্যান্সার স্ক্রিনিং সুবিধা পরিদর্শন করে। এ সময় দুই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও একমত হন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
প্রস্তাবিত অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নারীস্বাস্থ্য সেবায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ঋণ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও কর্মসূচির কার্যক্রম সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন