খুলনার দিঘলিয়ায় দুর্গাপূজা ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এ বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৬১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭টি মণ্ডপ রয়েছে গাজীরহাট ইউনিয়নে। অন্যদিকে, যোগীপোল ইউনিয়নে রয়েছে মাত্র একটি মণ্ডপ। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে গাজীরহাটে ২৭টি, বারাকপুরে ১৭টি, সেনহাটিতে ৮টি, দিঘলিয়ায় ৬টি, আড়ংঘাটায় ২টি এবং যোগীপোলে একটি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। সব মিলিয়ে ৬১টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আগমন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী ও দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে মূল দুর্গোৎসব শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৮ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির প্রস্তুতি চলছে।

দিঘলিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সৌমিত্র দত্ত বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি মণ্ডপের কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এবারও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত পূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নামাজের সময় মণ্ডপের সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা গুজবের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সমন্বয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করা হয়েছে।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরূপ কুমার চৌধুরী জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর সরবরাহ করা হবে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান। প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বয়ে দিঘলিয়ায় শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।