চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে ১৪০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ২৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৮১ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াতে রেমিট্যান্সের অবদান উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৭ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

চলতি মাসের ১৩ তারিখে এক দিনেই দেশে এসেছে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এক দিনের এই আয় অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনের মোট রেমিট্যান্সের অংশ। প্রবাসীদের নিয়মিত অর্থ পাঠানোর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ সচল থাকছে।

চলতি অর্থবছরের রেমিট্যান্সের হিসাবেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৯৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে একই সময় পর্যন্ত তা বেড়ে ৯৯৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ।

দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব অনেক। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বহু পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে সহায়তা করে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অবদান রাখে। ফলে প্রবাসী আয় বাড়লে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি এবং চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবে আয় বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুরো মাসের রেমিট্যান্সের চিত্র জানতে মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রবাসী আয় বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকে কি না, তা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হবে।