বাংলাদেশে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২জি মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ জন্য সরকারের অনুমোদন চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শুধু ২জি প্রযুক্তিনির্ভর ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে না। এতে দেশের বিপুলসংখ্যক বাটন ফোন ব্যবহারকারীকে বিকল্প ফোনের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে নেটওয়ার্ক বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি।

৩ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিটিআরসির কমিশন সভায় ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধের পথনকশা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে মোবাইল অপারেটর ও হ্যান্ডসেট নির্মাতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে এই পরিবর্তন সম্ভব হলেও গ্রাহকদের প্রস্তুত করা বড় চ্যালেঞ্জ।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশের মোট মোবাইল হ্যান্ডসেটের প্রায় ৩৫ শতাংশ ছিল ফিচার ফোন। অন্যদিকে, স্মার্টফোনের অংশ ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া দেশে প্রায় ১৯ কোটি মোবাইল সংযোগের মধ্যে ৬ কোটি ৫০ লাখের বেশি সংযোগ ব্যবহারকারী ফিচার ফোন ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ফোনের সবই যে শুধু ২জি নেটওয়ার্কে চলে, তা নয়।

২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ
টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধ ও বাটন ফোন অচল হওয়ার রোডম্যাপ l বিটিআরসি

সাধারণ বাটন ফোনের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর কম দাম এবং সহজ ব্যবহার। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গ্রামাঞ্চলের অনেক গ্রাহক কল করা এবং বার্তা পাঠানোর জন্য এসব ফোনের ওপর নির্ভর করেন। ফলে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে শুধু পুরোনো ফোন বদলানোর বিষয়টিই নয়, নতুন ডিভাইস কেনার খরচও তাঁদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে বাজারে সাধারণ ফিচার ফোনের দাম প্রায় ৯৫০ টাকা থেকে শুরু হলেও স্থানীয়ভাবে তৈরি সবচেয়ে সস্তা স্মার্টফোনের দাম প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টাকা বা তার বেশি বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ফলে দুই ধরনের ফোনের দামের ব্যবধান অনেক। সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য নতুন প্রযুক্তিতে যুক্ত হওয়া কঠিন হতে পারে।

২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে মোবাইল অপারেটরদেরও কিছু সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরোনো নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমানোর পাশাপাশি ২জি তরঙ্গ ফোরজি সেবার উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানো এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবার মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে ফাইভজি প্রযুক্তি সম্প্রসারণেও তরঙ্গের কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে এই পরিবর্তনের পথে বড় বাধা হলো ফোনের দাম ও গ্রাহকদের প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যবহারকারীরা তাঁদের বর্তমান ফোনের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে চান। তাই নেটওয়ার্ক বন্ধের সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি সাশ্রয়ী ফোনের প্রাপ্যতা, নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং গ্রাহকদের সচেতনতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এটি এখনো সরকারের অনুমোদনসাপেক্ষ পরিকল্পনা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিটিআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ২জি ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।