বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমতে পারে। ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনির সমস্যা কিংবা ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এই ঝুঁকি আরও বাড়ায়। তাই শুধু শিশুদের নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং গুরুতর জটিলতা থেকে সুরক্ষা পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা বড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাইরাসের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় সাধারণত প্রতিবছর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ফ্লুর সংক্রমণ হলেও টিকা গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
নিউমোনিয়ার টিকাও অনেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রয়োজনীয়। নিউমোকক্কাল ব্যাকটেরিয়া থেকে নিউমোনিয়া, রক্তের সংক্রমণ ও মেনিনজাইটিসের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের এই টিকা প্রয়োজন হতে পারে। বয়স, আগের টিকার ইতিহাস ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ করেন চিকিৎসক।

হেপাটাইটিস এ ও বি প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি, সিরোসিস ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আগে টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসকের পরামর্শে এই টিকা নেওয়া উচিত। এ ছাড়া এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখের ক্যানসারসহ ভাইরাসটির কারণে হওয়া কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী টিকা নেওয়ার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
টিটেনাস ও টিডিএপি টিকাও অবহেলা করা উচিত নয়। টিটেনাসের ক্ষেত্রে আগের টিকার ইতিহাস, ক্ষতের ধরন ও সর্বশেষ ডোজের সময় বিবেচনা করে বুস্টার প্রয়োজন হতে পারে। টিডিএপি টিটেনাস, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশি থেকে সুরক্ষা দেয়। গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী কোভিড-১৯, হারপিস জোস্টার এবং ভ্রমণ বা সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় অন্যান্য টিকাও প্রয়োজন হতে পারে।
তবে সব টিকা সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নয়। বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, পূর্ববর্তী টিকাদান এবং স্থানীয় নির্দেশনার ওপর টিকার প্রয়োজন ও ডোজ নির্ভর করে। তাই নিজে থেকে টিকা নির্বাচন না করে চিকিৎসক বা টিকাদানকেন্দ্রের পরামর্শ নিন। প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা গ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। সঠিক তথ্য জেনে সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা নিন এবং সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন