বান্দরবানে হোটেল বুকিং নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যস্ততা। শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার জনপ্রিয় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি রেস্টহাউজের প্রায় সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের আবাসন পেতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে জেলা শহরের নামী আবাসিক হোটেলগুলোতে এখন কক্ষ পাওয়া কঠিন।
ছুটির আগাম খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বান্দরবানে পর্যটকদের থাকার জায়গা নিশ্চিত করার তৎপরতা বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জেলার ভালো মানের অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। তবে শহরের বাইরে কিছু দূরবর্তী আবাসনকেন্দ্রে এখনো সীমিত পরিমাণ কক্ষ খালি থাকতে পারে। এসব স্থানে বুকিংয়ের হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। তাই ভ্রমণের আগে ফোন করে কক্ষের প্রাপ্যতা ও ভাড়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হোটেল গার্ডেন সিটির স্বত্বাধিকারী জাফর উল্লাহ জানান, তাঁদের হোটেলে মোট ২৫টি কক্ষ রয়েছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব কক্ষ বুকিং দেওয়া হয়েছে। ছুটির আগের ও পরের দিনগুলোতেও প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে হোটেল ডি-মোরের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার মংচিং মারমা জানান, তাঁদের হোটেলে চার হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা ভাড়ার বিভিন্ন শ্রেণির ৪৭টি কক্ষ রয়েছে। ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালিতেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন জানান, তাঁদের হোটেলে দুই হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকা ভাড়ার মোট ৪৬টি কক্ষ রয়েছে। ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গ্রাহকদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ও দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ছুটিকে ঘিরে বান্দরবানের আবাসন খাতে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
বান্দরবান হোটেল ওনার্স সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বছরের বিভিন্ন সময়ে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও বিশেষ ছুটিতে তাঁদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এবার দুর্গাপূজার ছুটিতেও উল্লেখযোগ্য পর্যটক সমাগমের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের সেবার মান বজায় রাখতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে যাঁরা বান্দরবান যেতে চান, তাঁদের আগেই আবাসন নিশ্চিত করা উচিত।
এদিকে ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাড়তি পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটনকেন্দ্র ও সড়কগুলোতে প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক ফরিদ উদ্দীন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং, যাতায়াত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে পরিকল্পনা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন