জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট ও গুপ্তদের রুখতে যুবদলের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলে রাখতে হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।’
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরের চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা ও মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে সিলেটে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।
মুন্না বলেন, শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিস্ট বাহিনীর দোসর ও গুপ্তরা’ পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত এবং বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এসব ‘অপশক্তির’ বিরুদ্ধে সিলেটের রাজপথে অতীতের মতো সোচ্চার ভূমিকা রাখতে জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও ১৭ বছর ধরে ‘গণহত্যার’ দায় এবং সিলেটের কৃতী সন্তান এম. ইলিয়াস আলীসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুম-খুনের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এসব অভিযোগ ও দাবি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে মুন্না তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
সিলেটের কর্মসূচিটি শুধু বিক্ষোভ সমাবেশে সীমাবদ্ধ ছিল না। জেলা ও মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মিছিলও আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদ।
এর আগে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে সিলেটে তিন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন রাতে নবগঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের উদ্যোগে কর্মীসভা আয়োজনের কথাও জানানো হয়। ওই কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নার।
সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও সম্প্রতি পরিবর্তন এসেছে। ২০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় যুবদল সিলেট জেলা ও মহানগরের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন করে। জেলা কমিটিতে মোহাম্মদ মকসুদ আহমদকে সভাপতি ও আব্দুস সালাম টিপুকে সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর কমিটিতে মির্জা মোহাম্মদ সম্রাটকে সভাপতি ও দেলোয়ার হোসেন দিনারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন জেলা ও মহানগর কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সিলেটের রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সংগঠন গোছানোর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
সমাবেশে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দলীয় নেতারা তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানান। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মুন্নার বক্তব্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন এবং গুম-খুনের ঘটনাগুলোর বিচার দাবির বিষয়টি উঠে আসে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের পাশাপাশি কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফল আলাদাভাবে বিবেচনার বিষয়।
সিলেটে শুক্রবারের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে। সামনে সংগঠনগুলোর কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতা কীভাবে এগোয়, সেদিকেও রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর থাকবে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন