সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৭৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। তবে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ। এতে অর্থবছরের শুরুতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পর সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আসার গতি কিছুটা কমে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে তিন মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
তিন মাসের হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। অর্থবছরের শুরুতে জুলাই ও আগস্ট মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হওয়ায় সামগ্রিক হিসাবে এই ইতিবাচক চিত্র তৈরি হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে এসে প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি বছরের একই মাসে এসেছে ২৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের প্রবৃদ্ধির দিকে তাকালে দেখা যায়, জুলাই ও আগস্টের রেমিট্যান্স প্রবাহ সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সেপ্টেম্বরেও আগের বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে। তবে আগের দুই মাসের তুলনায় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে।
এর ফলে অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্সে যে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা তৈরি হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে এসে তা কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। যদিও মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি কমেছে, তিন মাসের হিসাবে এখনো প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
রেমিট্যান্সের এই বাড়তি প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী আয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে এলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের চাপ সামাল দিতে অর্থনীতিতে সহায়তা পাওয়া যায়।
এদিকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিনেও দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর একদিনেই দেশে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। পুরো মাসের মোট রেমিট্যান্সের হিসাবে শেষ দিনের এই প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি মাসের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সামনে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কেমন থাকে, সেটি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী মাসগুলোতেও প্রবৃদ্ধি কম থাকলে তখন সামগ্রিক প্রবাহের গতি নিয়ে আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন হবে।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে প্রায় ১০০ কোটি ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও এখন পর্যন্ত অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবে প্রবাসী আয়ের চিত্র ইতিবাচক রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের তথ্যের ওপর নির্ভর করবে এই প্রবৃদ্ধির ধারা কতটা স্থায়ী হয়।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন