খুলনার রূপসায় ছেলে জয় ঢালী হত্যার ৫০ দিনের মাথায় তার বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করা হয়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো নামাজ শেষে চায়ের দোকানের সামনে বসেছিলেন আক্তার ঢালী। সেখানে অন্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা গিয়ে তাকে বেঞ্চের পাশে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন।

রূপসা থানার ওসি আনোয়ার জাহিদ জানান, আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় একই এলাকার শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। প্রায় দেড় মাসের ব্যবধানে এবার জয় ঢালীর বাবাকেও হত্যার ঘটনায় দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রূপসা থানার ওসি বলেন, আগের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং হত্যার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে গুলিতে হত্যার আরও ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা একটি চায়ের দোকানে গুলি করে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা জেলার নয়টি থানায় ৩৩টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যাকাণ্ডে গুলি ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে পারিবারিক বিরোধে ১১টি, মাদককে কেন্দ্র করে তিনটি, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনটি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি এবং আর্থিক কারণে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

পুলিশের দাবি, এ সময়ের ৩৩টি হত্যা মামলার মধ্যে ২৫টির রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। তবে রূপসায় আক্তার ঢালী হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে হত্যার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।