রাকসু ভিপি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে এবং শব্দচয়ন নিয়ে ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসু ভিপি দাবি করেন, রাকসুর নেতা-কর্মীরা হামলা করেননি, বরং নিজেদের ওপর হওয়া হামলার প্রতিরোধ করেছেন। তিনি বলেন, সংবাদে "হামলা" শব্দ ব্যবহারের কারণে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম নির্দিষ্ট একটি পক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিতর্কিত করে তুলছে।

এ সময় রাকসুর পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, রাকসু ভবনে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সহিংসতা বন্ধ করা এবং অতীতের নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা। রাকসু নেতারা বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের সমালোচনা করে রাকসু ভিপি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের কয়েক মিনিটের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যম মূল ঘটনার পরিবর্তে অন্য বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। একই সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারও বলেন, একটি ঘটনার ভাষাগত উপস্থাপন জনমনে ভিন্ন ধারণা তৈরি করতে পারে, তাই সংবাদ প্রকাশে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পরে প্রক্টর দপ্তরে বৈঠক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা, রাকসু ভবনে হামলার অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে দুজনকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করে।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাকসু, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং সাংবাদিকদের বক্তব্য ঘিরে বিষয়টি এখনো আলোচনায় রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।