বিপদের মুখে ম্যানচেস্টার সিটি। দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়মের মামলায় প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। তবে এখনো সিটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রিমিয়ার লিগের অভিযোগগুলো মূলত ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের আর্থিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ প্রায় চার বছরের তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ক্লাবের আয়, স্পনসরশিপ, পরিচালন ব্যয় এবং খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য না দেওয়ার বিষয়।

এ ছাড়া প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে সিটির বিরুদ্ধে উয়েফার আর্থিক নিয়ম এবং নিজেদের Profitability and Sustainability Rules বা আর্থিক স্থিতিশীলতা-সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তদন্তে প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা না করার অভিযোগও ছিল। সিটি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীন কমিশন ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে সিটিকে দায়ী করেছে এবং একটি অভিযোগ খারিজ হয়েছে। মামলাটির শুনানি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১২ সপ্তাহ ধরে বন্ধ দরজার আড়ালে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব।

তবে রায় এলেও এখনই ম্যানচেস্টার সিটির কোনো শিরোপা বাতিল হচ্ছে না। কারণ কমিশনের সিদ্ধান্তের পর আলাদা করে শাস্তি নির্ধারণের প্রক্রিয়া রয়েছে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে আর্থিক জরিমানা, পয়েন্ট কাটা এবং আরও কঠোর ব্যবস্থা থাকতে পারে। চরম পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তির বিষয়টিও নিয়মের আওতায় রয়েছে।

সিটির অতীতের লিগ শিরোপা নিয়েও তাই আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের আওতায় থাকা ২০০৯ থেকে ২০১৮ সময়কালে ক্লাবটি তিনবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল ২০১১-১২, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৭-১৮ মৌসুমে। কোনো শাস্তি যদি অতীতের পয়েন্ট বা ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে সেই সময়ের লিগ টেবিল ও শিরোপার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো শিরোপা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ম্যানচেস্টার সিটির এক মুখপাত্র দ্য অ্যাথলেটিককে জানিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ বাকি রয়েছে। বিষয়টি গোপনীয় হওয়ায় ক্লাবের অবস্থান ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির বিবৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও জানানো হয়েছে। ক্লাব দাবি করে আসছে, তারা আট বছর ধরে যথাযথ প্রক্রিয়াকে সম্মান করেছে এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রেখেছে।

এই মামলায় ম্যানচেস্টার সিটির আপিল করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে স্বাধীন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তই শেষ কথা নয়। আপিলের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে কিংবা শাস্তির ধরন নিয়েও নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া হতে পারে। তাই এখনই সিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়া বা প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এটি দীর্ঘদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও আর্থিক লড়াইগুলোর একটি। ২০১৮ সালে ফাঁস হওয়া আর্থিক নথিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্ত শুরু হয়। ২০২০ সালে উয়েফার আলাদা আর্থিক মামলাতেও সিটি শাস্তির মুখে পড়েছিল। তবে বর্তমান প্রিমিয়ার লিগের মামলাটি উয়েফার সেই মামলার থেকে আলাদা এবং এর পরিধিও অনেক বিস্তৃত।

এখন মূল নজর থাকবে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি ঘোষণা করা হয় এবং ক্লাবটি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে তার ফল কী হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সিটির আগের জেতা কোনো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা বাতিল হয়েছে এমন দাবি করার সুযোগ নেই।