মদিনায় হুথি হামলা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার তায়বাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় রোববার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পবিত্র নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মসজিদে নববীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে তায়বাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলায় একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কার্যক্রমের বাইরে চলে যায়। তবে এতে পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়নি। তদন্ত ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পর্যালোচনার পর হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, মদিনায় হুথি হামলা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ও জড়িত। মদিনা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র নগরী হওয়ায় সেখানে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে ধর্মীয় অনুভূতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সংহতির কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানকে সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু না করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এমন অবস্থানকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে হামলার দায় নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তদন্তের ভিত্তিতে হুথিদের দায়ী করলেও হুথিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় একটি ট্রান্সফরমার অকার্যকর হলেও বৃহত্তর বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল ছিল। ফলে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য সামনে এসেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এর কূটনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে।
বাংলাদেশের এই নিন্দা মূলত পবিত্র স্থান ও বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। মদিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরীতে যেকোনো ধরনের হামলা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন