মাদারীপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈম খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের গুলবাহার রেস্টুরেন্ট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নাঈম খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদারীপুরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযোগ, ওই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈম খান। পরবর্তীতে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদারীপুর সদর মডেল থানার একটি দল সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের গুলবাহার রেস্টুরেন্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নাঈম খান সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানায়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "নাঈম খানের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।"
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদনও করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে, নাঈম খানের গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং আদালতের নির্দেশনা এবং প্রচলিত আইন অনুসারেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে বৈধ মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে নাঈম খানকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন থানায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অভিযুক্তকে আইনের বাইরে রাখা হবে না।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন