ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রাইজ মানি ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করেছে। এবার প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য ফিফা মোট ৭২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা) আর্থিক অবদান ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭,৯৩০ কোটি টাকা)।

এটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় বিশাল বৃদ্ধি। কাতার বিশ্বকাপে মোট পুরস্কারের পরিমাণ ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫,৩২০ কোটি টাকা)। অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে ফিফা।

সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রাইজ মানি অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০৫ কোটি টাকা। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার।

কোন দল কত টাকা পাবে?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রাইজ মানিতে নতুন ইতিহাস
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রাইজ মানিতে নতুন ইতিহাস । ছবি: সংগৃহীত

ফিফার ঘোষিত পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো—

অবস্থান পুরস্কার
🏆 চ্যাম্পিয়ন ৫০ মিলিয়ন ডলার  (প্রায় ৬০৫ কোটি টাকা)
🥈 রানার্স-আপ ৩৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০০ কোটি টাকা)
🥉 তৃতীয় স্থান ২৯ মিলিয়ন ডলার  (প্রায় ৩৫১ কোটি টাকা)
৪র্থ স্থান ২৭ মিলিয়ন ডলার  (প্রায় ৩২৭ কোটি টাকা)
৫ম-৮ম ১৯ মিলিয়ন ডলার  (প্রায় ২৩০ কোটি টাকা)
৯ম-১৬তম ১৫ মিলিয়ন ডলার  (প্রায় ১৮২ কোটি টাকা)
১৭তম-৩২তম ১১ মিলিয়ন ডলার  (প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা)
৩৩তম-৪৮তম ৯ মিলিয়ন ডলার  (প্রায় ১০৯ কোটি টাকা)

হিসাব আনুমানিক (১ মার্কিন ডলার ≈ ১২১ টাকা)।

প্রতিটি দল নিশ্চিতভাবেই পাচ্ছে অর্থ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রাইজ মানি-এর আরেকটি বড় দিক হলো, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল শুরুতেই প্রস্তুতি বাবদ ১.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮ কোটি টাকা) পাবে।

অর্থাৎ, যে দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেবে, তারাও পারফরম্যান্স পুরস্কারসহ মোট ১০.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২৭ কোটি টাকা) নিয়ে দেশে ফিরবে। ফলে কোনো দলই এবার ১০.৫ মিলিয়ন ডলারের কম পাবে না।

কেন এত বড় পুরস্কার?

৪৮ দলের বিশ্বকাপ, বেশি ম্যাচ, সম্প্রচারস্বত্ব, স্পন্সরশিপ এবং বাণিজ্যিক আয়ের বড় বৃদ্ধির কারণে ফিফা এবার রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে। এর ফলে শুধু শীর্ষ দল নয়, অপেক্ষাকৃত ছোট ফুটবল জাতিগুলোও বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাবে। এতে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রাইজ মানি শুধু বিশ্বকাপের ইতিহাসেই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের অর্থনৈতিক কাঠামোতেও নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে।