বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার রয়েছে, যার স্বাদ একবার পেলে ভোলা কঠিন। তেমনি একটি জিভে জল আনা খাবার হলো বরিশালের বিখ্যাত চিংড়ির জলটোবা। গরম ভাতের সঙ্গে এই দারুণ পদটি পরিবেশন করলে নিমেষেই থালা খালি হয়ে যাবে। চলুন, আজ জেনে নেওয়া যাক মজাদার এই চিংড়ির জলটোবা তৈরির সহজ রেসিপি।
এই রান্নার দুটি মূল অংশ রয়েছে-একটি হলো চিংড়ির বড়া তৈরি এবং অন্যটি হলো নারকেলের দুধের সুস্বাদু ঝোল প্রস্তুত করা। বড়া তৈরির জন্য প্রথমেই মাঝারি আকারের ৪০০ গ্রাম কুচো চিংড়ি নিতে হবে। চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে খুব ভালো করে পরিষ্কার করার পর তা একদম মিহি করে বেটে নিতে হবে।
এরপর বাটা চিংড়ির সঙ্গে ১ চা-চামচ আদাবাটা, ১ চা-চামচ কাঁচা মরিচবাটা, সিকি চা-চামচ হলুদ, স্বাদমতো লবণ, আধা চা-চামচ চালের গুঁড়া এবং ১ চা-চামচ শর্ষের তেল খুব ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। এই চমৎকার মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য ঢেকে রেখে দিতে হবে।
এবার ঝোল তৈরির পালা। ঝোলের জন্য মূলত দেড় কাপ নারকেলের দুধ এবং ১ কাপ পানি প্রয়োজন হবে। একটি কড়াইয়ে প্রথমে ৪ টেবিল চামচ শর্ষের তেল গরম করে তাতে ১টি তেজপাতা এবং ১টি শুকনা মরিচ ফোড়ন দিতে হবে।
এরপর তাতে ১ টেবিল চামচ মিহি পেঁয়াজ কুচি, ৪-৫টি কাঁচা মরিচ, আধা চা-চামচ আদাবাটা, আধা চা-চামচ জিরাগুঁড়া, সিকি চা-চামচ হলুদ ও সামান্য মরিচগুঁড়া দিয়ে অল্প পানি যোগ করে মসলা খুব ভালোভাবে কষিয়ে নিতে হবে।
মসলা কষানো হয়ে গেলে এতে আগে থেকে মেপে রাখা নারকেলের দুধ ও পানি ঢেলে দিতে হবে। এরপর স্বাদ অনুযায়ী আধা চা-চামচ লবণ ও আধা চা-চামচ চিনি দিয়ে নেড়ে ঝোল ফোটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ঝোল ভালোভাবে ফুটে উঠলে চুলার আঁচ মাঝারির চেয়ে একটু কমিয়ে দিতে হবে।
এই পর্যায়ে হাতে সামান্য পানি লাগিয়ে আগে থেকে মেখে রাখা চিংড়ির মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট অংশ নিয়ে সরাসরি ফুটন্ত ঝোলের মধ্যে বড়ার মতো করে ছেড়ে দিতে হবে। সব বড়া ঝোলে দেওয়ার পর কোনোভাবেই খুন্তি বা চামচ দিয়ে কড়াই নাড়াচাড়া করা যাবে না। কেবল কড়াইয়ের হাতল ধরে সাবধানে একটু ঝাঁকিয়ে দিতে হবে, যাতে বড়াগুলো ভেঙে না যায়।
এভাবে কড়াই ঢেকে দিয়ে কম আঁচে ৭ থেকে ৮ মিনিট রান্না করতে হবে। বড়াগুলো সেদ্ধ হয়ে শক্ত হয়ে গেলে খুব সাবধানে উল্টে দিয়ে আরও ২ মিনিটের মতো চুলায় রাখতে হবে।
রান্নার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ২ ফালি কাঁচা মরিচ, গরমমসলা এবং আধা চা-চামচ ঘি ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর ১ মিনিট রেখে চুলার আঁচ বন্ধ করে দিলেই পরিবেশনের জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাবে বরিশালের এই মন ভোলানো ঐতিহ্যবাহী খাবার।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন