মো. নুরুল আলম, চন্দনাইশ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার চন্দনাইশ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড বানু বাপের বাড়ি পুকর পাড় থেকে বানু বাপের বাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা ও ড্রেন গত ২০ বছরেও মেরামত হয়নি। পৌরসভা থেকে বারবার মেরামতের আশ্বাস দিলেও তা রক্ষা করতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে পৌরসভা থেকে ২৪ বছর যাবত সংস্কারকাজ না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

রাস্তার মাঝে খানা-খন্দে ভরপুর, এর সঙ্গে ড্রেনের স্লাভ ভেঙে পড়ায় পচা পানির গন্ধে ও মশার উৎপাতে উতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ড্রেনের বিভিন্ন প্রান্ত ভরাট হয়ে যাওয়ায় বানু বাপের বাড়ি ও বিভিন্ন পাড়ার বিভিন্ন ড্রেনের পানি বের হতে পারছে না। ফলে একপশলা বৃষ্টি হলেই ড্রেন থেকে নর্দমা ও মশার লার্ভাযুক্ত পানি রাস্তার ওপর উপচে পড়ছে। এর ফলে মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে শতশত এলাকাবাসী। এসব ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় এলাকাবাসী পৌরসভায় কয়েকবার রাস্তা ও ড্রেন মেরামতের জন্য আবেদন করেছেন; কিন্তু কোনো কাজই করছেন না পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

চন্দনাইশে ২৪ বছরের দুর্ভোগ, বেহাল বানু বাপের বাড়ি সড়ক

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত চন্দনাইশ পৌরসভা ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হলেও নাগরিক সুবিধার অন্যতম প্রধান খাত—ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক যোগাযোগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে এখনও বঞ্চিত অবহেলিত এ পৌরসভার বাসিন্দারা। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যকর উন্নয়ন ছোঁয়া পায়নি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষায় হাঁটু সমান কাদা-পানি আর রোদের দিনে ওড়া ধুলাবালিতে চরম নাকাল হতে হচ্ছে পথচারীদের। অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়, আর মাঝারি বা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। জ্যাম হয়ে থাকা ড্রেনের পানি নিষ্কাশনে গতি না থাকায় জনভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।

চন্দনাইশে ২৪ বছরের দুর্ভোগ, বেহাল বানু বাপের বাড়ি সড়ক

চন্দনাইশ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মান্নান এ প্রতিবেদককে জানায়, আমাদের মহল্লায় শতশত পরিবারের বসবাস। ২৪ বছর ধরে পৌরসভায় উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় রাস্তা এবং ড্রেনেজ-ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক হয়ে পড়েছে। এদিকে পানি নিষ্কাশনে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার পৌরসভায় জানানো হয়েছে। তার পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক পথচারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার জরাজীর্ণ অবস্থা। ড্রেন জ্যাম হয়ে থাকায় বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা ডুবে যায়।

জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা প্রসঙ্গে চন্দনাইশ পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী রাজিব মজুমদার জানান, "পৌরসভার বেশিরভাগ সড়কেরই সংস্কার প্রয়োজন এবং সে অনুযায়ী ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই 'ইমিডিয়েট' টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে। বানু বাপের বাড়িসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলো দ্রুততম সময়ে সংস্কার করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আবদুর রহমান জানান, বর্তমানে পৌরসভার মধ্যে অনেক রাস্তা ও ড্রেনেজ-ব্যবস্থার একই অবস্থা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত মেরামতকাজ করা হবে।

চন্দনাইশে ২৪ বছরের দুর্ভোগ, বেহাল বানু বাপের বাড়ি সড়ক

​তবে কর্তৃপক্ষের কেবল মৌখিক আশ্বাসে আর আস্থা রাখতে পারছেন না ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা কাগজে-কলমে না রেখে, বাস্তবে দ্রুততম সময়ে সড়ক ও ড্রেনেজ সংস্কার করে যাতায়াত স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত ড্রেন সংস্কার, সড়ক উঁচু করা মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চন্দনাইশ পৌর প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।