ওমরাহ এজেন্সি পরিচালনা ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত দিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পরিচালনাকারী এজেন্সিগুলোর নিবন্ধন বা অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়ায় ছয়টি শর্ত নির্ধারণ করেছে ঢাকায় অবস্থিত সৌদি আরবের দূতাবাস।
সৌদি দূতাবাসের দেওয়া এসব শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি ও মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ১৮ আগস্টের একটি স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি দূতাবাস ওমরাহ পরিচালনাকারী এজেন্সিগুলোর জন্য এসব শর্ত দিয়েছে। ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
সৌদি আরবের প্রথম শর্ত হলো, এজেন্সিকে বাংলাদেশ সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত স্থানীয় লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ ওমরাহ পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধ স্থানীয় লাইসেন্স থাকা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী, এজেন্সিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অফিসের একটি পূর্ণাঙ্গ ফাইল প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে লাইসেন্স, পাসপোর্ট, আর্থিক বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সময় এসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি এজেন্সিকে সৌদি আরবে নিবন্ধিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ওমরাহ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। অর্থাৎ সৌদি আরবের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেই ওমরাহ পরিচালনার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
চতুর্থ শর্ত অনুযায়ী, চুক্তিটি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত মানসম্মত চুক্তির ভিত্তিতে করতে হবে। এতে ওমরাহ পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও মান বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম শর্তে চুক্তি সত্যায়নের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এ জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ksavisa.sa প্ল্যাটফর্মে চুক্তি সত্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে অনলাইন প্রক্রিয়াটিও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ষষ্ঠ ও শেষ শর্তে বলা হয়েছে, নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর এজেন্সিগুলো যেন সৌদি আরবের প্রযোজ্য নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ শুধু নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই হবে না; পরবর্তী কার্যক্রমেও সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে সৌদি দূতাবাসের নির্ধারিত ছয়টি শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, লাইসেন্স, সৌদি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি এবং চুক্তি সত্যায়নের প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
নতুন শর্তগুলোর ফলে ওমরাহ এজেন্সিগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট নথিপত্র ও অনুমোদনের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে ওমরাহ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি এজেন্সিগুলোকে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিমালা মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে এখন সৌদি দূতাবাসের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় আরও সুশৃঙ্খল কাঠামো তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন