বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। শিক্ষকদের অবসরসুবিধা ও কল্যাণসুবিধার একটি অংশ চলতি মাসেই দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপাতত একজন শিক্ষক-কর্মচারী অবসরসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং কল্যাণসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পেতে পারেন। তবে গ্রেড ও চাকরির ধরন অনুযায়ী টাকার পরিমাণ কমবেশি হবে। আগামী ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অর্থ দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এবার অবসরসুবিধার টাকা পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। তাঁদের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে কল্যাণসুবিধা দেওয়া হবে, এতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা। একই শিক্ষক বা কর্মচারী দুই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে দুটি খাতে মোট আবেদন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি হলেও সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে কম হবে।
এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অবসরের পর অনেক শিক্ষককে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর তাঁদের পাওনা টাকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কেউ কেউ টাকা পাওয়ার আগেই মারা গেছেন—এমন ঘটনাও রয়েছে। এবার অন্তত নিজেদের চাকরিকালীন চাঁদার একটি অংশ হাতে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, বাকি পাওনাও যেন দ্রুত পরিশোধ করা হয়।
শিক্ষকদের অবসরসুবিধা পরিচালনার জন্য রয়েছে দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট কল্যাণসুবিধার অর্থ দেয়, আর অবসরসুবিধা বোর্ড অবসরকালীন অর্থ পরিশোধ করে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা কেটে এই তহবিল গঠন করা হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত অবসরসুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪ ও ২ শতাংশ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়, যা দুই তহবিলে জমা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার মূলত দুই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে থাকা অর্থ দিয়েই আংশিক সুবিধা দেওয়া হবে। গ্রেড অনুযায়ী অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। সর্বোচ্চ গ্রেডের একজন অধ্যক্ষ অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পাওয়ার যোগ্য হলেও এর মধ্যে চাঁদার অংশ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধায় মোট পাওনা ২০ লাখ টাকার বেশি হলেও এবার সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে। অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক অবসরসুবিধায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়ার যোগ্য হলেও চাঁদার অংশ প্রায় ২ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধায় তাঁর মোট পাওনা প্রায় পৌনে ৭ লাখ টাকা।
অবসরসুবিধা বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, আবেদনকারী প্রায় সব শিক্ষক-কর্মচারী এবার তাঁদের চাঁদার টাকার অংশ পাবেন। পরবর্তী সময়ে তহবিলে অর্থ এলে বাকি টাকাও পর্যায়ক্রমে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। তবে বেসরকারি শিক্ষকদের দাবি, শুধু আংশিক অর্থ নয়, তাঁদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার পুরো পাওনা দ্রুত পরিশোধের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন