স্পেনের আবাসন সংকট এবার বড় ধরনের জনবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। শনিবার ৩ অক্টোবর মাদ্রিদসহ দেশটির বিভিন্ন শহরের রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। ভাড়া কমানো, উচ্ছেদ বন্ধ, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মাদ্রিদসহ স্পেনের ৫০টিরও বেশি শহরে কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। মাদ্রিদে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা নিয়ে আয়োজক ও কর্তৃপক্ষের হিসাবে বড় পার্থক্যও রয়েছে।
বিক্ষোভের উত্তেজনা বাড়ে শুক্রবার ২ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টে সরকারের প্রস্তাবিত দুটি জরুরি আবাসন ডিক্রি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর। এসব ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা বাড়ানো এবং আবাসনসংকটের কিছু তাৎক্ষণিক প্রভাব মোকাবিলা করা। কিন্তু সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় প্রস্তাবগুলো পাস হয়নি। এর পরদিনই রাজধানী মাদ্রিদ ছাড়াও ভ্যালেন্সিয়া, বার্সেলোনা এবং আরও অনেক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্পেনের আবাসন সংকট নিয়ে ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে বাড়তে থাকা ভাড়া ও উচ্ছেদের ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে ৮৭ বছর বয়সী মারিয়া দেল কারমেন আবাসকাল বা মারিকারমেনকে মাদ্রিদের বাসা থেকে উচ্ছেদের ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। তিনি ওই বাসায় সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করেছিলেন। ঘটনাটি দেশটির আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই চলা অসন্তোষকে আরও তীব্র করে এবং তার পক্ষে বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে তার বাসায় ফেরার বিষয়ে নতুন সমঝোতার কথাও জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে শুধু কম ভাড়াই নয়, উচ্ছেদ বন্ধ করা, দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার চুক্তি নিশ্চিত করা এবং তথাকথিত ‘ভালচার ফান্ড’ বা বড় বিনিয়োগ তহবিলের আবাসন কেনাবেচার ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলো আরও ব্যাপক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের আয় ও আবাসন ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। ফলে শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণ নয়, বিদ্যমান ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার বিষয়টিও জরুরি বলে তারা মনে করছে।
ভ্যালেন্সিয়ায় শনিবারের কর্মসূচিতে পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং পুলিশি ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে মাদ্রিদে বড় জমায়েতের পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল এলাকায় প্রতিবাদী অবস্থান চলছিল। বার্সেলোনাসহ অন্য শহরেও আবাসন অধিকার নিয়ে কর্মসূচি নেওয়া হয়, যদিও খারাপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কর্মসূচি পরিবর্তন বা বাতিল হয়েছে।
এই পরিস্থিতি স্পেনের আবাসন সংকটকে শুধু সামাজিক নয়, রাজনৈতিক আলোচনারও কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। পার্লামেন্টে সরকারের আবাসন প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে এবং আগাম নির্বাচন নিয়ে আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি। সরকারের জোটের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় ভবিষ্যতে আবাসননীতি নিয়ে নতুন সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন