সাদা ডিম নাকি বাদামি ডিম বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসে। অনেকের ধারণা, বাদামি ডিম দেখতে একটু আলাদা হওয়ায় এটি বেশি পুষ্টিকর। আবার কেউ মনে করেন সাদা ডিমই বেশি ভালো। কিন্তু বাস্তবে ডিমের খোসার রং দেখে এর পুষ্টিমান বিচার করা ঠিক নয়। ডিমের রং মূলত মুরগির জাত ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। তাই খোসা সাদা, বাদামি কিংবা অন্য রঙের হলেই ডিমের পুষ্টিগুণে বড় পার্থক্য তৈরি হয় না।
১. ডিমের খোসা সাদা বা বাদামি হয় কেন?
ডিমের খোসার রং নির্ভর করে যে মুরগি সেটি পেড়েছে তার জাতের ওপর। কিছু জাতের মুরগি সাধারণত সাদা খোসার ডিম দেয়, আবার কিছু জাতের মুরগির ডিম হয় বাদামি। ডিম তৈরি হওয়ার সময় খোসার ওপর বিভিন্ন প্রাকৃতিক রঞ্জক জমার কারণেও এই রঙের পার্থক্য দেখা যায়। এমনকি একই ধরনের মুরগির ক্ষেত্রেও বয়স, পরিবেশ বা শারীরিক অবস্থার কারণে ডিমের রং কিছুটা হালকা বা গাঢ় হতে পারে। অর্থাৎ ডিমের খোসার রং মূলত বাহ্যিক একটি বৈশিষ্ট্য।
২. বাদামি ডিম কি সত্যিই বেশি পুষ্টিকর?
বাদামি ডিমকে অনেকেই সাদা ডিমের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর মনে করেন। কিন্তু শুধু খোসার রঙের কারণে একটি ডিমকে বেশি পুষ্টিকর বলা যায় না। দুই ধরনের ডিমেই সাধারণত প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। ডিমের পুষ্টিমানের পার্থক্য থাকলেও সেটি খোসার রঙের কারণে নয়। বরং মুরগির খাবার, পালন-পদ্ধতি ও ডিমের আকারের মতো বিষয়গুলো পুষ্টির ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৩. ডিমের স্বাদ কি খোসার রঙের ওপর নির্ভর করে?
অনেকে বাদামি ডিমের স্বাদ বেশি ভালো মনে করেন। আবার কারও কাছে সাদা ডিমই বেশি সুস্বাদু। তবে ডিমের খোসার রং স্বাদের প্রধান কারণ নয়। মুরগিকে কী ধরনের খাবার দেওয়া হয়েছে, ডিমটি কতটা তাজা এবং সেটি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এসব বিষয়ের ওপর স্বাদ অনেক বেশি নির্ভর করে। তাই বাদামি ডিম মানেই বেশি সুস্বাদু বা সাদা ডিম মানেই স্বাদে কম এমন ধারণার নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
৪. ডিমের পুষ্টি বাড়ে কীভাবে?
ডিমের পুষ্টিমান বাড়ানোর ক্ষেত্রে মুরগির খাবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুরগির খাদ্যে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ উপাদান যোগ করা হলে ডিমে ওমেগা-৩-এর পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। একইভাবে নির্দিষ্ট ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার দিলে ডিমের কিছু পুষ্টি উপাদানের মাত্রাও বাড়তে পারে। মুরগিকে কীভাবে পালন করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু খোলা জায়গায় পালন করা বা ডিমের খোসা বাদামি হওয়ার কারণে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি পুষ্টিকর হয়ে যায় এমনটা বলা ঠিক নয়।
৫. বাদামি ডিমের দাম বেশি হওয়ার কারণ কী?
বাজারে অনেক সময় বাদামি ডিমের দাম সাদা ডিমের চেয়ে বেশি দেখা যায়। এর পেছনে ডিমের পুষ্টিগুণের চেয়ে উৎপাদন খরচ ও বাজারের চাহিদা বড় কারণ হতে পারে। কিছু বাদামি ডিম পাড়া মুরগি তুলনামূলক বেশি খাবার গ্রহণ করে। আবার অরগানিক, ফ্রি-রেঞ্জ বা বিশেষ ধরনের উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে বাদামি ডিমকে অনেক সময় যুক্ত করা হয়। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে এর আলাদা চাহিদা তৈরি হতে পারে এবং দামও বাড়তে পারে। তবে বেশি দাম মানেই বেশি পুষ্টি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
৬. ডিম কেনার সময় কী দেখবেন?
ডিম কেনার সময় খোসার রং নিয়ে বেশি চিন্তা না করে ডিমটি কতটা তাজা, খোসা অক্ষত আছে কি না এবং কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এসব বিষয় দেখা বেশি জরুরি। প্যাকেটজাত ডিম হলে মেয়াদ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত তথ্য দেখে নেওয়া ভালো। বিশেষ ধরনের ডিম কিনতে চাইলে মুরগির খাবার ও পালন-পদ্ধতি সম্পর্কে প্যাকেটের তথ্যও যাচাই করা যেতে পারে। সবশেষে বলা যায়, বাদামি ও সাদা দুই ধরনের ডিমই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তাই শুধু রং দেখে নয়, ডিমের সতেজতা ও মান বিবেচনা করেই পছন্দ করা উচিত।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন