রূপপুরে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম আগামী ২৮ এপ্রিল শুরু হতে যাচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে। এই লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পটির জ্বালানি লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যায়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রূপপুরে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা চালানো হবে। সব পরীক্ষা শেষ হলে জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। পরে ধীরে ধীরে পূর্ণ উৎপাদনে পৌঁছাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, শুরুতে কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরে সব সমস্যা সমাধান হলে কমিশনিং কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হয়। রূপপুর প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে লাইসেন্স অর্জন করেছেন।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে পৌঁছাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগতে পারে। এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্প এলাকার নিকটবর্তী চরসাহাপুরে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।এই কর্মসূচি আয়োজন করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। সেখানে প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে স্থানীয়দের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ একটি জাতীয় প্রকল্প সফল করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন