কোটা সংস্কার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়েও ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের উত্তেজনা কমেনি। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সময়ের সঙ্গে বড় রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তাদের দমন করতে কঠোর অবস্থান নেয় তৎকালীন সরকার।
আন্দোলন যত বিস্তৃত হতে থাকে, ততই সংঘর্ষ, ধরপাকড় ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং সহিংস ঘটনায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। এসব ঘটনার পর আন্দোলনের মূল দাবি শুধু কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ না থেকে নিহতদের বিচার ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবিতেও বিস্তৃত হয়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কোটা সংস্কার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ কোটার মাধ্যমে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
তবে রায় ঘোষণার সময় দেশজুড়ে কারফিউ এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল। একই দিনও বিভিন্ন স্থানে হতাহতের খবর আসে। ফলে শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দেন, শুধু কোটা সংস্কার নয়, আন্দোলনে প্রাণ হারানো মানুষের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগানেও সেই ক্ষোভ স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
এই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এসব ঘটনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি করে এবং আন্দোলনের গতি কমার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তখন আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক নতুন ছিল না। ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত এলেও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। সেই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগের কোটা সংস্কার রায় প্রকাশ হলেও তত দিনে আন্দোলনের চরিত্র বদলে গিয়েছিল। ফলে এই রায় প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন