ওবায়দুল কাদেরের রায় আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির রায় ঘিরে এখন অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ তথ্য জানান।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলাটির শুনানি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর আগে গত ১৭ আগস্ট শুনানি শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রাখেন। ফলে এখন ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।
মামলাটিতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।
এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। যুক্তিতর্কে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়েছে।
মামলায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আসামি হিসেবে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। আরও রয়েছেন যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাঁদের বিরুদ্ধেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোন দিনে রায় দেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে রায়ের তারিখ।
মামলার শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় এখন পুরো নজর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দিকে। রায় ঘোষণার পর মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও স্পষ্ট হবে। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আবেদন থাকায় রায়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন