নিম চন্দ্র ভৌমিক আর নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।

দীর্ঘ কর্মজীবনে নিম চন্দ্র ভৌমিক শিক্ষা, কূটনীতি ও সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও তাঁর ছিল দীর্ঘ সম্পর্ক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন নিম চন্দ্র ভৌমিক। গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন সংগঠন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর দীর্ঘ সামাজিক ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে দেশের বিভিন্ন মহলে তাঁর প্রয়াণকে গুরুত্বপূর্ণ বিদায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক যৌথ শোকবার্তায় ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। একই সঙ্গে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস কুমার বিশ্বাস সাধনও শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে আজ সকালে নিম চন্দ্র ভৌমিকের মরদেহ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলাঙ্গনে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে মরদেহ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মির্জানগরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হবে। এরপর সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।