নামাজের নিষিদ্ধ সময় সম্পর্কে প্রতিটি মুসলিমের স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহতে যথাসময়ে সালাত আদায়ের ব্যাপারে কঠোর তাগিদ দেওয়া হলেও, দিন-রাতের মধ্যে নির্দিষ্ট তিনটি সময়ে যেকোনো ধরনের সালাত আদায় করা থেকে বিশেষভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
প্রথমত, সকালে সূর্য উদয় হওয়ার সময়টিতে সালাত আদায় করা নিষেধ। ফজরের সময় পার হওয়ার পর থেকে নিয়ে সূর্য পুরোপুরি উদিত হয়ে আকাশে কিছুটা ওপরে না ওঠা পর্যন্ত সময়টাকে নামাজের নিষিদ্ধ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়; এই সময় কাজা বা নফল পড়া নিষিদ্ধ।
দ্বিতীয়ত, দুপুরে সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর বা মধ্যাকাশে অবস্থান করে, তখনও যেকোনো সালাত আদায় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সূর্য পশ্চিম আকাশে কিছুটা হেলে পড়ার পরেই জোহরের মূল ওয়াক্ত শুরু হয়।
তৃতীয়ত, বিকেলে সূর্য যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে পশ্চিম আকাশে অস্ত যাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকে, ঠিক সেই মুহূর্তটি ইবাদতের জন্য নিষিদ্ধ। তবে আসরের ফরজ নামাজ কোনো কারণে বিলম্বিত হলে সূর্যাস্ত শুরু হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত কেবল সেই দিনের আসরটুকু আদায় করে নেওয়ার বিশেষ অনুমতি রয়েছে।
হাদিস শরিফে উল্লিখিত এই তিন সময়ে যেকোনো নফল বা কাজা নামাজের পাশাপাশি জানাজার সালাত কিংবা সিজদায়ে তেলাওয়াত সম্পন্ন করাও মাকরুহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। পবিত্র শরীয়তের এসব সূক্ষ্ম নির্দেশ মেনে সালাত আদায় করলেই তা সঠিকভাবে কবুল হয়।
অতএব, নামাজের নির্দিষ্ট ওয়াক্ত পালনের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলা মুমিনের দায়িত্ব।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন