মেট্রোরেল প্রকল্পের লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে দুটি টানেল ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন। বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এবং খিলক্ষেত এলাকায় এসব স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পুরো কাজটিতে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
লাইন-১-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ সিপি-০৯-এ ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হবে। রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংয়ের সঙ্গে থাকবে ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং উপকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎব্যবস্থা। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
এদিকে সিপি-১০ প্যাকেজে মেট্রোরেলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর আওতায় থাকবে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক, এলটিইভিত্তিক বেতার যোগাযোগ, প্ল্যাটফর্মের পর্দা-দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও ট্র্যাক নির্মাণের এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পের লাইন-৫-এও থাকছে বড় ধরনের নির্মাণকাজ। সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৯ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার এই পথে হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়ালস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা।
এ ছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুনবাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে, যার মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা।
লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ করা হবে। এ কাজের মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন প্যাকেজে বিপুল অর্থের এই কাজ রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একটি বড় ধাপ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, লাইন-১ ও লাইন-৫-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক অনুমোদন করেছে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।
মেট্রোরেল লাইন-৫-এর রুট গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল এই দুটি রুটে নির্মিত হচ্ছে। ফলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে দ্রুত ও আধুনিক রেল যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়বে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন