জামাইকা যাওয়ার জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েও বিদেশে যেতে পারেননি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব মাহদী হাসান। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে দেওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে ফিরে যেতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মাহদীকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে আপত্তি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা। তবে ঠিক কী কারণে তার ভ্রমণে বাধা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

মাহদী হাসান নিজেও বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার জামাইকা যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইটটির নির্ধারিত সময় ছিল রাত ৯টা ৩৫ মিনিট। কিন্তু বিমানবন্দরে যাওয়ার পর তাকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মাহদীর দাবি, তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। এরপরও তাকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরে পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে যেতে হলে আদালতের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের দেওয়া পরামর্শের পর বিমানবন্দর এলাকা ছেড়ে চলে যান মাহদী। তবে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে তিনি পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ফলে মাহদীর বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জে সক্রিয় ভূমিকার কারণে মাহদী হাসান আলোচনায় আসেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় তাকে ঘিরে নানা আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ জামাইকা যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে তার বিদেশযাত্রা বন্ধের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট মামলা, আদালতের নির্দেশ বা অন্য কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে আরও স্পষ্ট হবে।