শীতে ঠোঁট ফাটা বেশ পরিচিত একটি সমস্যা। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে ঠোঁট রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে শুধু শীতেই নয়, বছরের অন্যান্য সময়েও ঠোঁট শুকিয়ে গিয়ে ফাটার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুষ্ক ঠোঁটের যত্নে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। ভ্যাসলিনের মতো পেট্রোলিয়াম জেলি ঠোঁটের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই ঠোঁট অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্যাসলিন লাগানো যেতে পারে।
ঠোঁটে ভ্যাসলিন ব্যবহারের আগে ঠোঁট পরিষ্কার করে নিন। এরপর অল্প পরিমাণ ভ্যাসলিন নিয়ে দুই ঠোঁটে আলতোভাবে লাগান। বিশেষ করে ঠোঁটের ফাটা অংশ ও কোনাগুলোতে ভালোভাবে লাগানো যেতে পারে। খুব জোরে ঘষা বা ম্যাসাজ করার প্রয়োজন নেই।
ঠোঁটের চামড়া উঠে গেলে অনেকেই সেটি টেনে তুলে ফেলেন। এই অভ্যাসে ঠোঁটে ক্ষত তৈরি হয়ে রক্তপাত বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চামড়া টেনে না তুলে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ঠোঁট নরম রাখার চেষ্টা করা ভালো।
শীতে বাইরে বের হওয়ার সময় ঠোঁটের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডা বাতাসের পাশাপাশি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিও ঠোঁটের ক্ষতি করতে পারে। দিনের বেলায় বাইরে গেলে SPF-যুক্ত লিপ বাম বা লিপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠোঁট বারবার জিহ্বা দিয়ে ভেজানোর অভ্যাসও এড়িয়ে চলা ভালো।
ঠোঁট ফাটা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, বারবার রক্তপাত হলে, অতিরিক্ত ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া যত্নের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক ঠোঁটের পেছনে পানিশূন্যতা, কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন