জুমার দিনের ফজিলত ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবারের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য আলাদা। হাদিসে জুমার দিনকে সব দিনের সর্দার ও আল্লাহর কাছে মহান দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বদরি সাহাবি হজরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের মর্যাদা ও বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন—
إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللهِ مِنْ يَوْمِ الْأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ، فِيهِ خَمْسُ خِلَالٍ: خَلَقَ اللهُ فِيهِ آدَمَ، وَأَهْبَطَ اللهُ فِيهِ آدَمَ، وَفِيهِ تَوَفَّى اللهُ آدَمَ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ اللهَ الْعَبْدُ فِيهَا شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، مَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرَّبٍ، وَلَا أَرْضٍ وَلَا سَمَاءٍ، وَلَا رِيَاحٍ وَلَا جِبَالٍ وَلَا بَحْرٍ، إِلَّا وَهُنَّ مُشْفِقُونَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ।
অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই জুমার দিন সব দিনের সর্দার। আল্লাহর কাছে এই দিন ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিন থেকেও মহান। জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’
প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো, জুমার দিনেই আল্লাহ তাআলা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। মানবজাতির প্রথম মানুষ ও নবী হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টির সঙ্গে এই দিনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়। ফলে মানবজাতির দুনিয়াবি জীবনের সূচনার সঙ্গেও জুমার দিনের সম্পর্ক রয়েছে।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, জুমার দিনেই হজরত আদম (আ.)-এর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টি, পৃথিবীতে আগমন এবং মৃত্যুর সঙ্গে জুমার দিনের বিশেষ সম্পর্কের কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
চতুর্থত, জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো বৈধ বিষয়ে দোয়া করলে আল্লাহ তা দান করেন। হাদিসে বলা হয়েছে, বান্দা যেন হারাম কোনো বিষয়ের জন্য প্রার্থনা না করে। এ কারণে জুমার দিনে দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য হলো, কিয়ামত সংঘটিত হবে জুমার দিনেই। হাদিসে বলা হয়েছে, নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, আকাশ, পৃথিবী, বাতাস, পাহাড় ও সাগর সবকিছুই জুমার দিনের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকে।
তাই জুমার দিনের ফজিলত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনটি ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলের মাধ্যমে কাটানোর চেষ্টা করা উচিত। জুমার দিনের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনাগুলো মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
হজরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৫৫৫৯), মুসনাদে আহমাদ (১৫৫৪৮) ও ইবনে মাজাহ (১০৮৪১)-এ উল্লেখ করা হয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন