জেমসের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ইতালিতে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকস্টার মাহফুজ আনাম জেমসের ব্যান্ড নগরবাউলের বিরুদ্ধে ৩৫ হাজার ইউরো প্রতারণার অভিযোগ করেছেন এক বাংলাদেশি কনসার্ট আয়োজক। তবে অভিযোগের বিষয়টি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। জেমসের ম্যানেজার রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন জানিয়েছেন, বিষয়টি যেহেতু আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়েছে, তাই তাঁরা আইনিভাবেই এর মোকাবিলা করবেন।
২১ আগস্ট ইতালির রোমের অ্যাচিলিয়া এলাকার একটি কারাবিনিয়ারি পুলিশ স্টেশনে লিখিত অভিযোগটি করেন বাংলাদেশি কনসার্ট আয়োজক আবুল মোয়াজ। অভিযোগের নথি অনুযায়ী, রোম ও ভেনিসে নগরবাউল জেমসের দলের কনসার্ট আয়োজনের জন্য মোট ৩৫ হাজার ইউরো অর্থ দেওয়া হয়েছিল। ওই অর্থ প্রদান এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে জেমসের ম্যানেজার রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিনের সঙ্গে করা চুক্তি বা সমঝোতার প্রসঙ্গও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে অর্থ লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও জেমস নিজে ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন বা ব্যক্তিগতভাবে প্রতারণা করেছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে ভেনিস থেকে বক্তব্য দেন জেমসের ম্যানেজার রবিন। তিনি বলেন, যে কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন। তবে অভিযোগ করলেই সেটি প্রমাণিত হয়ে যায় না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং তাঁরা আইন অনুযায়ীই এর জবাব দেবেন।
রবিন আরও জানান, পুলিশের কাছে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে মানেই সেটি সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। আদালতের কোনো রায়ও এখনো হয়নি। তিনি বলেন, চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এ মুহূর্তে দলের মূল মনোযোগ রয়েছে নির্ধারিত কনসার্টকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য, ২৩ আগস্টের ভেনিস কনসার্ট নিয়েই তাঁরা ব্যস্ত এবং অন্য বিষয় নিয়ে এখন ভাবছেন না।
নগরবাউলের ইতালি সফর ঘিরে রোম ও ভেনিসের কনসার্ট নিয়ে আগে থেকেই আগ্রহ ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। এর মধ্যেই অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা কিংবা অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতভিত্তিক সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগ এবং তার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াই এখন বিষয়টির মূল কেন্দ্র।
আগামী ২৩ আগস্ট ভেনিসে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট হওয়ার কথা রয়েছে। সেই আয়োজনকে সামনে রেখে দলের ম্যানেজার জানিয়েছেন, তাঁরা নির্ধারিত কর্মসূচিতেই মনোযোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে ৩৫ হাজার ইউরো নিয়ে করা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত জেমসের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকারের পাশাপাশি বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলার অবস্থান জানানো হয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন