যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে আরও বড় পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সময়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছে তেহরান। তবে দীর্ঘদিনের সংঘাত, অর্থনৈতিক চাপ এবং দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের মার্কিন স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহযোগিতাকারী দেশগুলোর কিছু স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে। লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকেও প্রস্তুত রাখার কথা জানা গেছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা অর্থের একটি অংশ ছাড় এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো পদক্ষেপের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপত্তি জানালেও কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত মঙ্গলবার মার্কিন পক্ষের একটি প্রতিক্রিয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির কাছে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আলোচনায় মূল মতবিরোধের জায়গা হিসেবে কোন শর্ত আগে বাস্তবায়িত হবে, সেটি উঠে এসেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র এ ইস্যুতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ চাইলেও ইরান নিজেদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ছাড় দিতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ থাকলেও সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতেও পড়েছে। তেল রপ্তানি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বাধার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার চাপ দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার সর্বশেষ প্রচেষ্টায় কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখন দুই পক্ষ নিজেদের শর্তে কতটা ছাড় দিতে রাজি হয়, তার ওপর সংঘাত কমানোর পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন